"রবীন্দ্রনাথের দর্শনচিন্তা" বইটির শেষের ফ্ল্যাপ-এর লেখাঃ রবীন্দ্রচর্চায় উল্লেখযোগ্য সংযোজন হল ‘রবীন্দ্রনাথের দর্শনচিন্তা'। গ্রন্থটিতে রবীন্দ্র দর্শনমানসের উৎসের সন্ধানে চারটি পর্বে পনেরোটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দার্শনিক বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের জগৎ, সৃষ্টি এবং ঈশ্বরভাবনা আলোচিত হয়েছে। পাশ্চাত্য দর্শনের পটভূমিতে ভাববাদীচিন্তা, তত্ত্বচিন্তা এবং স্বাধীনতাচিন্তার বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক অবস্থান কী ছিল তার একটি দিকনির্দেশ করা হয়েছে। তাঁর দর্শনচিন্তার ভাবধারাটি গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিল যথাক্রমে- উপনিষদীয় দর্শন, বৌদ্ধ দর্শন, গীতা, বেদান্ত, বৈষ্ণব ও বাউলের মতাদর্শের দ্বারা। রবীন্দ্রভুবনে ‘মুক্তি’ শব্দটি কতটা প্রাসঙ্গিক ছিল তার একটি সুন্দর আলোচনা করা হয়েছে এই গ্রন্থে। রবীন্দ্রদর্শনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রত্যয় হল— ‘মনুষ্যত্ব’, যা আমাদের সহনশীলতা, সমন্বয় ও উদারতার আদর্শে দীক্ষিত করে। আর এই মূল্যবান বৈশিষ্ট্যগুলিই রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী দর্শনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যা এই গ্রন্থের মূল উপজীব্য বিষয়।