রবীন্দ্রনাথ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাম্প্রদায়িকতা | উপমহাদেশের রাজনীতি ও সংস্কৃতি | বিশেষ মূল্য BDT 338 | Rabindranath, Dhaka Bishwobidyalaya O Samprodayikota | Upomohadesher Rajneeti O Songskriti | Bisesh Mulyo BDT 338 | বইপোকা
গ্রন্থনাম রবীন্দ্রনাথ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতা হলেও এটি রবীন্দ্রনাথের ওপর পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা-গ্রন্থ। উনিশশতকে উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্প্রদায়িক মনোভাব উদ্ভবের মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক। বাঙালি সংস্কৃতির পুরোধা হিসেবে সেই রবীন্দ্রনাথকেও রাজনীতির মাঠে টেনে আনেন রাজনৈতিক কুশীলবরা। বিশশতকের প্রথমার্ধ থেকে তাঁকে ‘হিন্দু’ তকমা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে যে-ফায়দা হাসিলের চেষ্টা-তদবির শুরু হয় এখনও তা ক্রমবর্ধমান। নিষ্ঠ গবেষক আলমগীর শাহরিয়ার সেই সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষের স্বরূপ উন্মোচনে গ্রন্থের বিভিন্ন প্রবন্ধে হাজির করেছেন এমনসব তথ্য-উপাত্ত যা ছিল এতদিন সাম্প্রদায়িকতার ঘেরাটোপে আবদ্ধ। বঙ্গভঙ্গ-আন্দোলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, জাতীয় সংগীত ইত্যাদি জাতীয় ঘটনাসহ জমিদার রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে মুসলমানের সম্পর্ক, তাঁর ধর্মদর্শন প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষক যে-বিশ্লেষণাত্মক ও ব¯ুÍনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছেন তা সত্যি বিস্ময়কর। এই গ্রন্থ রবীন্দ্রবিষয়ে যেসব বিভ্রান্তি চালু আছে তা নিরসনের এক বহুমাত্রিক নিরীক্ষা বলা যেতে পারে। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে। এমনকি গবেষক উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতার শেষগন্তব্য সন্ধানে দুঃখ ও ক্ষতের বিপরীতে সম্প্রীতি ও সম্মিলনের যে-স্বপ্নকথা ব্যক্ত করেছেন তাও তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও আশাবাদকে চিহ্নিত করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি ও আশাবাদ যে রবীন্দ্রসূত্রে প্রাপ্ত তা তাঁর চিন্তা ও মনন থেকেই স্পষ্ট। উপমহাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতা গ্রন্থটি নিঃসন্দেহে একটি জরুরি রচনা।