রিমঝিম বৃষ্টিতে আপন মনে ভিজছে কয়েকটা কাক। ইচ্ছেমতো ভিজছে। ভিজতে ভিজতে ওদের কালো ধূসর পালকগুলো শরীরের সাথে লেপ্টে গেছে। চোখগুলো হয়ে উঠেছে রক্তবর্ণ। রবিনের একসময় মনে হয় প্রকৃতি বুঝি কাঁদছে। ও ভাবতে থাকে, প্রকৃতিও কি মানুষের মতো দুঃখ পেলে, কষ্ট পেলে কাঁদে? ভাবতে ভাবতে তাকিয়ে থাকে আকাশের দিকে। হালকা হালকা সাদা রঙের মেঘ। রবিন ভাবে, প্রকৃতির দুঃখ-কষ্ট এখন মনে হয় খুব বেশি নয়। খুব বেশি হলে নিশ্চয়ই মেঘের রং কালো হতো। অনেক বেশি দুঃখ-কষ্ট হলে হয়তো ঘন কালো হতো। রবিনের ভাবনাগুলো এলোমেলো। তবে সেটি ঘুরতে থাকে প্রকৃতিকে কেন্দ্র করেই। ও ভাবতে থাকে, প্রকৃতিরও হয়তো প্রাণ আছে। তাহলে প্রকৃতিও কি প্রাণী? অদ্ভুত সব ভাবনা ওকে আচ্ছন্ন করে রাখে। রবিন লক্ষ করে, অবিরাম বৃষ্টিতে নাকাল পরস্পরের সহজাত শত্রু প্রাণীগুলো পাশাপাশি শান্ত হয়ে অবস্থান করছে বাঁচার তাগিদে। কেউ কাউকে আক্রমণ করছে না। কেউ কাউকে ভয়ও পাচ্ছে না। সবাই যেন বদলে গেছে। ভুলে গেছে পারস্পরিক শত্রুতা। রবিন অনেক কাগজের নৌকা বানিয়েছিল। সেগুলো একটা একটা করে বৃষ্টির পানির ¯্রােতে ভাসিয়ে দিতে থাকে। আর ভাবতে থাকে, এই বৃষ্টি যদি মানুষে মানুষে শত্রুতা ভুলিয়ে দিত। সবাই যদি সবাইকে ভালোবাসতো, কেউ যদি কারো কোনো ক্ষতি না করত, যদি এই পৃথিবীটা হতো হিংসা-দ্বেষ-বিদ্বেষবিহীন শুধু ভালোবাসাময়, তাহলে কতই না ভালো হতো!