‘পিঠা’ বাংলাদেশে শিল্প সংস্কৃতির একটি অংশ। এটুকু বললেই এর শেষ হয় না। কবি সুফিয়া কামালের ‘পল্লী স্মৃতি’ কবিতায় লিখেছেন ‘পৌষ পার্বণে পিঠা খেতে বসে, খুশিতে বিষম খেয়ে আরাে উল্লাস বাড়িয়াছে মনে মায়ের বকুনী খেয়ে’। পিঠা যে খুশি, পিঠা যে উল্লাস সবটুকু যেন এ লাইনটুকুতে প্রস্ফুটিত হয়েছে। পিঠা খাওয়া, তৈরি করা, সবটাই একটা কাব্যিকতা, ভালােলাগার অনুরণন। এ সংস্কৃতি, অবশ্য এখন অনেকটা বিলুপ্তির পথে। তাইতাে এখন একটু টেনে ধরে রাখার জন্য শুরু হচ্ছে রকমারি পিঠার মেলা। এ মেলায় কি সে পিঠার সুখ এনে দিতে পারছে? না পারছে না। মেলায় হয়তাে শিল্প সংস্কৃতিটা উঠে আসছে। সেই ভালােলাগা, সেই উল্লাস, সেই মমতার ছোঁয়া, সেই বন্ধনের সুবাস, কোনােটাই নেই তাতে। কিছু কিছু পিঠার রেসিপি দেখে এ যুগের মেয়েদের যদি জেগে ওঠে, একটু মমতার সেতুবন্ধন গড়তে। তারই ক্ষুদ্র প্রয়াশ।