আফরোজা আক্তার এর লেখা ও বইবাজার প্রকাশনী প্রকাশনীর বই "রুম নাম্বার ১২৭ | Buy this book at 248 BDT from বইসদাই - boisodai.com | Bangladesh | বইপোকা
পেছনে দাঁড়িয়ে তন্দ্র আফরিনকে দেখছে। আফরিন বুকসেলফের কাছে দাঁড়িয়ে কী যেন করছে। খানিক সময়ের জন্য একটু হলেও ভরকে যায় সে৷ ওইখানে তো তন্দ্রের কিছু জিনিসপত্র রাখা আছে। আফরিনকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেওয়া যাবে না। তন্দ্র উচ্চকণ্ঠে ডেকে ওঠে, “আফরিন।” আফরিনও চমকে পেছনে তাকায়। তন্দ্র ভেজা শরীরে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। গলার নিচ দিয়ে পানি বেয়ে পড়ছে৷ শরীরে তার টাওয়াল ছাড়া অবশিষ্ট আর কিছুই নেই৷ আফরিন ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করার পর দেখতে পায় তন্দ্র আর তার মধ্যে সর্বোচ্চ ছয় হাত দূরত্ব। আফরিন কিছুতেই বুঝতে পারছে না এত উচ্চস্বরে ডাকার কী হলো? সে প্রশ্ন করে, “এভাবে ডাকলে কেন? আমি কি কানে কালা?” তন্দ্র সামান্য বিচলিত হলেও নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে বলে, “আমি সেই কখন থেকে তোমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছি। আর তুমি বুকসেলফের দিকেই তাকিয়ে আছো। এটা তো ঠিক না?” “তুমি তো মাত্রই এলে।” “নাহ ম্যাডাম। আমি অনেকক্ষণ ধরেই দাঁড়িয়ে আছি আপনার পেছনে।” ভ্রু জোড়া কুঁচকে আফরিন বলে, “ওহ। তাহলে হয়তো খেয়াল করিনি।" তন্দ্র কিছু না বলে কাবার্ড থেকে জামাকাপড় বের করছে আর মনে মনে বলছে, হ্যাঁ, তুমি ঠিকই ধরেছ আমি মাত্রই তোমার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু তোমাকে এটা বুঝতে দেওয়া যাবে না আফরিন। আফরিন বিছানায় বসতে বসতে ভাবছে, তন্দ্র মিথ্যা কেন বলল। সে তো আয়নায় স্পষ্ট দেখতে পেল তন্দ্র এসেই তাকে ডেকেছে। তবে কেন বলল, সে আরও আগেই এসেছে। মিথ্যা বলার কারণ কী হতে পারে? নাকি বুকসেলফের কাছে দাঁড়িয়ে থাকাটা তন্দ্রকে সমস্যা করেছিল যার জন্য তন্দ্র খুব কায়দা করে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছে। আফরিনের কৌতুহলী চোখ তন্দ্রকে দেখতে থাকে।