"সাতাশ মাত্রায় এক দাড়িঁ" বইয়ের ফ্ল্যাপে লিখা ওই যে ওই ছেলেটা হেঁটে যাচ্ছে ফ্লাইওভারটা পেরিয়ে; তার মন কিছু ভিক্ষে চাইছে। পােশাকে মার্জিত, আচরণে মৃদুস্বর হাস্যমত। তাই তাকে ভিক্ষুক মনে হবে না। তবু সে আক্রান্ত এক মহামারী ক্ষয়ে। ভেঙে যাচ্ছে, তলিয়ে যাচ্ছে অথচ চলনে মধ্যম গতি সম্পন্ন সুবােধ সুস্থ মানুষ। তার চিকিৎসা করতে পারবেন না। কারণ তার গায়ে তাপ নেই, পায়ে ক্ষত নেই, অসুস্থ বলতে যা বােঝায় তার লক্ষণ নেই। সে হয়তাে ক্ষুধার্ত, অথচ তার অতটা কাছে যাওয়া যাবে না যতটা কাছে গেলে ক্ষুধার গন্ধ পাওয়া যায়। সে হয়তাে অনেক প্রয়ােজন চেপে কর্পোরেট কোনাে বসের সামনে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে জবাব দেবে সবকিছুর। হতে পারে তার আজকের চাকরিটা হয়ে যেত, যদি পায়ের জুতাে জোড়া চকচকে এবং নতুন হতাে। কিন্তু হয়নি, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিম্নগামী দর্শনে। সন্ধ্যা নামবে আর কিছুক্ষণ বাদে, তারও পাঁচ-ছয় ঘণ্টা পরে শহর ঝিমুতে ঝিমুতে ঘুমিয়ে যাবে দিনের ক্লান্তি নিয়ে। অথচ সেই মানুষটির খবর রাখবে না কেউ, যে একটু সহযােগিতার অভাবে সভ্যতার নির্মাণে কোনাে অবদান রাখতে পারল না আজো। যার ক্যালেন্ডারে যােগ হলাে আরেকটি ব্যর্থ দিন।