শাহেদ কায়েস বাঁক ফেরার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন তার কাব্যপাঠককে। চিন্তার নতুন বিন্যাসে তুখোড়, মেধাবী এই কবি একজন প্রকৌশলী। কিন্তু তার এই প্রকৌশল বিদ্যাকে তিনি কবিতার শরীরে তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি করেন অবলীলায়, যা আমাদের সংক্রমণ করে সংগতি ও অসংগতিকে। ঘুরে দাঁড়ান, শিরদাঁড়া সোজা করে। সমাজের দুঃসহ অসংগতির বিরুদ্ধে, মিলিত হন প্রতিবাদের উত্তাল জমিনে। আমার সময়ে এই প্রতিবাদী কবি আক্রান্ত হন মুহূর্তে মুহূর্তে। তিনি যে পথে হাঁটেন, সে পথে সবাই হাঁটতে পারে না। সে পথ সহজ কোনো পথ নয়। অথচ কী অদ্ভুত, সবার জন্যই শাহেদ মগ্ন হন প্রতিবাদের মিছিলে। জীবনকে বাজি রেখে নির্ভীক, আপসহীন এক উজ্জ্বল শাহেদ কায়েস আমাদের অন্ধকারে আলো দেন। যেমন করে তিনি লিখতে পারেন, আলোকিত সেই চোখÑ জীবন পাঠশালার তুখোড় ছাত্র/মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত আব্বাÑ আজীবন আপসহীন প্রাণ বিরুদ্ধ হাওয়ার...। যেমন করে বৈষম্যমূলক আর অসংগতিতে ঠাসা, শোষকের তীব্র আক্রোশের মুখে তিনি তুলে দেন প্রতিবাদের ভাষা শোষিতের পক্ষে, এই সমাজে। তারপর কবি চূড়ায় হারানো কণ্ঠ খুঁজতে বের হন, যেখানে রয়েছে আমাদের গৌরব, যেখানে রয়েছে আমাদের দারুণ বৈভব, যা আমরা হারিয়ে ফেলেছি, অথবা হারাতে হয়েছে কোনো অদৃশ্য ইঙ্গিতে। সেই গৌরব পুনরুদ্ধারের স্পৃহা জাগে কবির। - আলফ্রেড খোকন