নব্বই দশকের কবিদের মধ্যে সুমন সরদারের বিশিষ্টতা এই যে, কবিতায় তিনি ছন্দ-পরম্পরা মেনে নিয়েই প্রতীক-চিত্রকল্পে কাব্যভাষাকে সাংকেতিক করে তোলায় প্রয়াসী। কবিতার ছন্দ, ভাষা এবং নির্মাণ কৌশল নিয়ে তিনি ভাবেন, কিন্তু কখনও কবিতাকে অস্পষ্টতায় হারিয়ে যেতে দেন না। কবিতার মর্মার্থে একই সঙ্গে রহস্যের আলো-আঁধার, আবার আঙ্গিকে ঐতিহ্য মেনে নিয়েও পূর্বসূরীদের প্রচলিত পথ এড়িয়ে নতুন কবিতা লেখা মোটেই সহজ কাজ নয়। সেই চ্যালেঞ্জিং কাব্যভাষাই তার কবিতার মূল শক্তি। আরও স্পষ্ট করে বললে সুমন নিরীক্ষাপ্রবণ কবি। তার কবিতায় মেসেজ থাকে কিন্তু তা বিবৃতিধর্মী নয়। ছন্দ থাকে কিন্তু তা পূর্বসুরীদের ছকে বাঁধা আঙ্গিকের হুবহু অনুসরণ নয়। গদ্যের কাছাকাছি, অথচ ছন্দমাত্রায় সুগঠিত। ছন্দে লেখা কবিতাকে মুখের ভাষার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া কম কথা নয়। আধুনিক কবিতার এও এক বড় গুণ। গত প্রায় তিন দশকের অধিক সময় নিরন্তর নিষ্ঠায় সুমন সরদার ক্রমাগত নিজেকে অতিক্রমণের লক্ষ্য নিয়েই কবিতা লেখেন। যে কারণে ইতঃপূর্বে প্রকাশিত তার ছয়টি কাব্যগ্রন্থÑ একটি থেকে অন্যটি আলাদা। ‘স্বপ্নাবিষ্ট চেতনার ধ্বনি’ কাব্যগ্রন্থেও সুমনের পাঠকরা নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবেন। নিসর্গ-প্রকৃতি আর সমকালীন সমাজ বাস্তবতার মিশেলে রচিত এ কাব্যগ্রন্থ শুদ্ধ কবিতাপিপাসুদের তৃষ্ণা মেটাবেÑ এ আমার বিশ্বাস।