আমাদের শৈশব-কৈশোরের স্বর্ণালি দিনগুলো ছিল শুধুই সুখের, শুধুই ভালোলাগার, শুধুই ভালো থাকার। আমি মনে করি মানুষের জীবনে বিধাতার দেয়া সবচেয়ে আশীর্বাদপুষ্ট সময় হচ্ছে তার শৈশব-কৈশোরের কাল। এই সময়টা যদি আমাদের জীবনে না আসত তাহলে আমরা পরবর্তী জীবনের যন্ত্রণাদগ্ধ ক্ষতগুলোকে কিছুতেই অতিক্রম করতে পারতাম না। এটা একান্তভাবে আমার উপলব্ধি। তবে একথা ঠিক যে, যখন শৈশবের আঙিনায় ঘুরে বেরিয়েছি তখন কিন্তু বুঝিনি যে, এই সময়টা এতটা সুখের, এতটা ভালো লাগার, এতটা প্রশান্তিময় হয়ে ওঠবে এক সময়। আজ যখন বুঝতে পারছি এবং মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছি তখন বহু পেছনে ফেলে এসেছি সেই স্বর্ণালি দিনগুলো। ইচ্ছে করলেই আর ফিরে পাব না কিংবা ফিরে যেতে পারব না সেসব দিনে। পারব কেবল বর্তমান সময়ের বর্ণময় ফোঁড়ে সে সময়ের চিত্রকে জীবন্ত করে তুলতে। শিশুদের প্রতি আমাদের নির্মল ভালোবাসার বোধহয় এ-ও একটি কারণ। তাদের কথাবার্তা, চলাফেরা, আচার-আচরণের মধ্যে নিজের শৈশবকে খুঁজে পাই আমরা, পুরাতন সেই আনন্দের ক্ষণগুলোকে মনের মধ্যে জাগিয়ে তোলে বর্তমান সময়ের দুঃখ-যাতনা-টানাপোড়েনের হাত থেকে মুক্তি পেতে চেষ্টা করি আমরা। নতুন করে এই ভাবনা মনের মধ্যে জেগে ওঠে যে, আমিও একদিন শিশু ছিলাম, কিশোর ছিলাম।