প্রকৃতি ও প্রাণীর সঙ্গে বেড়ে ওঠা অধ্যাপক জয়েন উদ্দিনের। উঠোনে খড়ের পুঞ্জ, গোয়াল ঘরে গরু ছাগলের লাদি থেকে ভেসে আসা গ্রামীণ সুবাস। পাশেই শীম শসা ও লাউয়ের মাঁচা, তালপুকুর, বিস্তীর্ণ ধান ক্ষেতে জমে থাকা টলটলে জলে খুদে পানার সবুজের মধ্য থেকে ভুরভুর করে উঠে আসা বুদবুদ। সেখানে দল বেঁধে সাঁতার কাটে টাকি পুঁটি ও খলসে মলা মাছ। জয়েন উদ্দিন খেত খামারের আল ধরে হাঁটেন, ফুসফুস ভরে নেন বিশুদ্ধ অক্সিজেন। শতবর্ষী ছাইতন গাছের গোড়ায় হেলান দিয়ে বসে স্মৃতির জাবর কাটেন। জয়েন উদ্দিনের পরিবারের প্রেম, বিরহ, সঙ্কট- উত্থান ও পতনের চেনা গল্পটা আবর্তিত হয় গ্রাম থেকে শহরে। সমাজ বদলের স্বপ্নে বিভোর জয়েন উদ্দিনের চোখের সামনেই ঘটতে থাকে একের পর এক অনাকাঙ্খিত ঘটনা। চরম মানসিক অস্থিরতা, হতাশা, লোভ, আর বিকৃতিতে ভরপুর সমাজের মানুষগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় মেকি সভ্যতার কাঁচের প্রাসাদ বা শিশমহল ভেঙে খানখান হয়ে যাওয়ার দৃশ্যাবলী।