...কায়স্থ বিবেকানন্দের সন্ন্যাস নেওয়া ঘিরে সেযুগে বেশ জলঘোলা হয়েছিল। কায়েস্থর ছেলের সন্ন্যাসী হওয়াকে কলকাতার গোঁড়া রক্ষণশীল সমাজ ভালোভাবে মেনে নেয়নি। আর এ-বিষয়ে স্বামী বিবেকানন্দ যে শুধুমাত্র কলকাতার বাঙালিদের হাতে বিড়ম্বিত হয়েছিলেন এমনটা নয়, দক্ষিণ ভারতেও স্বামীজিকে বিভিন্ন বিদ্রুপের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। স্বামীজি তখন দক্ষিণভারতে, মাদ্রাজে। সেখানে একদিন কয়েকজন ব্রাহ্মণ এসে স্বামীজির সঙ্গে আলাপ জুড়লেন। শূদ্রর সন্ন্যাস নেওয়াকে কটাক্ষ করতেই তাঁদের আগমন হয়েছিল। এ-বিষয়ে লিখছেন স্বামী গম্ভীরানন্দ। তিনি লিখছেন, “একবার কতকগুলি মাদ্রাজী ব্রাহ্মণ আসিয়া স্বামীজিকে জিজ্ঞাসা করিলেন, স্বামীজি আপনার কী জাত? স্বামীজি গম্ভীর হইয়া প্রত্যুত্তর করিলেন, “যে জাত রাজা সৃষ্টি করে আমি সেই জাতের লোকসন্ন্যাসীর আদেশে রাজা সিংহাসনে বসেন, সন্ন্যাসী উপস্থিত থাকিলে রাজা সিংহাসন ত্যাগ করিয়া দাঁড়াইয়া থাকেন এবং সন্ন্যাসীকে অবজ্ঞা করিলে রাজা সিংহাসনচ্যুত হন।… স্বামীজির কথা শুনিয়া ব্রাহ্মণেরা নির্বাক হইয়া রহিলেন।”...