কাব্য-মহিমামগ্ন কবি মালেকা ফেরদৌসের ভাবৈশ্বর্যে ঋদ্ধ শ্রেষ্ঠ কবিতা আশির দশকের কবিদের মধ্যে সমধিক উজ্জ্বল- ব্যক্তিত্বময় নাম- মালেকা ফেরদৌস। যতটা শিল্পমগ্ন কাব্য-ভুবনের বাসিন্দা ঠিক ততটাই সংবেদনশীল কবি মালেকা ফেরদৌসের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে দশকের কাব্য-চর্চায় ব্যক্তিজীবন-সমাজ-জাতি-মানব বিশ্ব নিয়ে গভীর অভিনিবেশজাত অনেক কবিতা আমরা পেয়েছি। মালেকা ফেরদৌসের কবিতা বিষয়-ভাবনানিচয়- শব্দ-ছন্দ-চিত্রকল্প এবং শিল্প-প্রয়োগশৈলীসহ আত্মমগ্ন হৃদয়গত বিন্যাসেও সমৃদ্ধ। কবিতার কাব্যমহিমা। যা কাব্য-পাঠককে আপ্লুত করেÑ তা যতটা ব্যাখ্যার- তারচেয়ে অনেক বেশি অনুভবের বিষয়। মালেকা ফেরদৌসের কবিতার বিষয়-ভাষ্য এবং শিল্প-প্রয়োগশৈলীর দিকে নজর রাখলে সহৃদয় হৃদয় পাঠক ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ গ্রন্থের কবিতাগুলোর অন্তর্গত মানবীয় বোধ-চৈতন্যের আস্বাদ লাভ করতে পারবেন। কবি হিসেবে মালেকা ফেরদৌস প্রয়োজনীয় আরও অনেকে কিছুর পাশাপাশি এই বিষয়টিকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তাঁর কবিতা পাঠকের কাছে কামনা করে- গভীর অভিনিবেশ সহকারে আগাগোড়া পাঠ। কবি মালেকা ফেরদৌস নৈসর্গিক আবহে অনন্য আত্মমগ্ন উচ্চারণে মানব-পীড়ন- মানবের অসহায়ত্বকে শৈল্পিক বুনট এবং সমৃদ্ধ কাব্য-ভাষা সহযোগে প্রতিস্থাপন করেছেন। আত্মিক ও আধ্যাত্ব-মগ্নতা বাস্তব সচেতনতায় মিশে তাঁর কবিতায় অনন্য রূপ লাভ করেছে। কাব্য-মহিমামগ্ন এই কবির ভাবৈশ্বর্যে ঋদ্ধ ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ কবিতা অনুরাগী পাঠকদের কাব্যস্পৃহা উদ্দীপ্ত করবে- এটা বলা যায়।