বিক্রমপল্লীর যুবরাজ শুভব্রত রূপবান, প্রতিভাবান ও অস্বাভাবিক; তার পিতা নম্রব্রত আশা করেছিলো সে একদিন হবে সমগ্র মহারাজ্যের মহারাজ। পিতা তাকে কিশোর বয়সেই রাজা ও রাজত্বের সাথে পরিচিত করানোর জন্যে নিয়ে যায় মহারাজ্যের রাজধানী রাজগৃহে, এবং সেখানেই বদলে যায় তার নিয়তি। একদল নগ্ন উন্মাদ কিশোর শুভব্রতের মধ্যে আবিষ্কার করে তাদের ত্রাতাকে, যে বহুদেবতার ধর্ম বাতিল ক'রে প্রতিষ্ঠিত করবে একদেবতার, একবিধাতার, ধর্ম; অমূল বদলে দেবে বহুদেবতাবাদী বিশ্বকে। তারপর থেকে ক্রমশ বদলে যেতে থাকে শুভব্রত, অস্বাভাবিক অলৌকিক হয়ে উঠতে থাকে, সুখকর যুবরাজের জীবন ছেড়ে বেছে নেয় ত্রাতার কঠিন জীবন, এবং বহুদেবতাবাদ ছেড়ে প্রচার করতে থাকে একদেবতার ধর্ম। শুভব্রত লাভ করে অনুসারী ও শত্রু, বিতাড়িত হয় পিতার রাজ্য থেকে; কিন্তু তার ভেতরে কাজ করে এক অদ্ভুত অলৌকিক শক্তি; সে হয় জয়ী, জয় করে নতুন রাজ্য, পুনরাধিকার করে পিতার রাজ্য, এবং প্রতিষ্ঠা করতে চায় বিধাতার মহারাজ্য। বিধাতার কঠোর অনুশাসনে সে বন্দী ক'রে ফেলে সবাইকে, এমনকি নিজেকেও; একদিন তার ভুল ভাঙে, বুঝতে পারে যে-বিধাতার ধর্ম সে প্রচার করছে, সে-বিধাতা আসলে তারই সৃষ্টি। তার সেনাপতিরা তা স্বীকার করতে রাজি হয় না, তারা পেয়েছে শক্তির স্বাদ; তারা খুন করে শুভব্রতকে, এবং বিধাতার নামে বেরিয়ে পড়ে রাজ্যের পর রাজ্য জয় করতে।