ফ্ল্যাপে লিখা কথা কবিকে পরম্পরার ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এক্সপেরিমেন্টের নামে উল্লম্ফন কবিতা নয়। যদিও আজকাল এ ধরনের উল্লম্ফনকে নতুন কবিতা নামে চালিয়ে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষলীয়। কিন্তু প্রকৃত কবিতা কি এ ধারণাকে সমর্থন করে? মনে হয় না। প্রবহমান কালের গতিধারা আয়ত্ত করেই কবি নিজের ভুবনে পাঠককে আহবান করেন। এ জন্যই কবি কালের রাখাল কিংবা সময়ের প্রকৃত কারিগর । শুচি সৈয়দ প্রচলিত পরম্পরাকে নিজের মতো করে এগিয়ে নিয়েছেন। প্রচার সর্বস্বযুগে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন বলেই তথাকথিত পাদপ্রদীপের আলোয় তার উপস্থিতি নিই। যতি থাকতো তাহলে বলতে পারতেন না- ‘আমি তোমার বুকে অনড়/পাথর হয়ে আছি-/একটা জীবন আমার সঙ্গে/ তোমার কানামাছি!’ কিংবা ‘বিক্রি করি লালসালু করবস্থান/ বিদেশ-বিভুঁইয়ে মরে আমার সন্তান!’ এই যে সমসমায়িক বিষয়কে অবলম্বন করে কিবতা লেখা এটা খুব সহজ কথা নয়। কেননা কবিতা সংবাদ না। তবে সংবাদ কবিতা হতে পারে। যদি তা প্রকৃত কবির হাতে পড়ে। শুচি সৈয়দ এই বইয়ে নিজেকে নতুন ভাবে পাঠকের কাছে উপস্থিত করেছেন। যারা কবিতা হচ্ছে না হচ্ছে না বলে চিৎকার করেন তারা হয়তো নতুন করে চিন্তা করবেন। এহসানুল ইয়াসিন সূচি* শূন্য করতলে লোনাজল* ত্রিশূলের ত্রিভঙ্গে* অনেক অবহেলা* কালনেমি-কাল মায়া* স্পর্শে তোমার* মৃত্যুর মোহনায়* বেঁচে থাকা* সত্যের সুন্দর উপাসনায়* স্থিরতর কাব্যসময়* উড়ির চরের ঘূর্ণিঝড়ের পর* নার্সিসাস* আমার বুকের মৃত্যুবীজে* পাপড়িগুলো যাই মেলে* বিশাল গণকবর* একটি সকালের দৃশ্যে* তুমি মানে প্রাণ* এভাবেই কবির লড়াই* অপরাজেয় অহংকারে * শরমহীন শিশুটি* কবির প্রতিশ্রুতি* শিল্পী সুলতান* ইস্টিমারের বাতাসে চুল* শিল্পিত-অন্ধ* না লেখা কবিতাগুলো* তৃতীয় মাত্রায়* উষর প্রান্তরের ইহুদিরা* আলো হয়ে রয়* এক লক্ষ ত্রিশ হাজার বীরশ্রেষ্ঠ* উদ্ভট পদ্য* চিরায়ত মেলার চত্বরে* আর্ত বর্তমান* কানামাছি* কোন এক সুবেহ সাদেকে মাইন্ড গেম কন্যার সাথে* আমি-তুমির বিবরবাস* অসহায় জনতা লেখক পরিচিতি ছড়া, কবিতা, প্রবন্ধ, কলামিস্ট। বর্তমানে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় সিনিয়র সাব-এডিটর পদে কর্মরত।