“সীমানার সাথে যুদ্ধ : বাঙালি সংস্কৃতি, ভাষা, রবীন্দ্রনাথ, মুক্তিযুদ্ধ ও বুদ্ধিজীবী প্রসঙ্গে" বইটির কিছু তথ্যঃ বিষয়ের কোনো শেষ নেই। লেখকের সুবিধা ও অসুবিধা সেখানেই। তবে “সীমানার সাথে যুদ্ধ” গ্রন্থটি সাজাতে খুব বেশি অসুবিধা হয়নি। আমার বেশ কিছু প্রবন্ধ থেকে মাত্র পনেরটি বেছে একটি ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে সেটি “সীমানার সাথে যুদ্ধ” শিরোনামেই যে লেখাটি রয়েছে তাতেই বিধৃত। ক্রমশ নিজেকে বা নিজেদেরকে অতিক্রম করা আধুনিকতার বড় লক্ষণ। ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাসমনন, সভ্যতা গঠন ও বিনোদন সন্ধানে অগ্রগতি হতে গেলে অবশ্যই সাহসী হতে হয়। নতুন প্রয়োজনকে স্বীকার করবার শক্তিমান আগ্রহ ব্যক্ত করতে হয়, রবীন্দ্রনাথ যা করতে পেরেছিলেন। কবি সুকান্ত সে শক্তি ধারণের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আর ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালি জাতি তা প্রমাণ করে দেখিয়েছে। নিজের চারপাশে গড়ে উঠা শক্ত দেয়ালটা টিকিয়ে রাখার কোনো প্রয়োজন না থাকলে তা সরিয়ে ফেলে আলোটাকে বড় প্রান্তরে স্বরূপে দেখতে গেলে চোখ ধাঁধানো ঝলকানি সহ্য করবার ক্ষমতা থাকা চাই। একদা সৃষ্টরীতি ও মূল্যবোধ পরিবর্তনের পথে গেলে তা বিলীন হয়ে যাবে, না আরও উৎকর্ষমন্ডিত হবে, তা নিশ্চিত হবে-ই সময়ের আগামী যাত্রায়। সীমানার সাথে সময়ের সংঘর্ষ অনিবার্য। একে রুখবে কে ? তাই সেই যুদ্ধের অস্তিত্বকে আমি মানি এবং আমার বইয়ের জন্য বেছে নেয়া সব কটি লেখাতেই সেই অনিবার্য যুদ্ধকে প্রত্যক্ষ করেছি বলে বইটির নামশেষ পর্যন্ত হয়েছে “সীমানার সাথে যুদ্ধ”।