মুক্তিযুদ্ধে যেমন বাংলাদেশের নারীরা প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছেন অথচ তারা ইতিহাসে দৃশ্যমান নন এবং শুধু নির্যাতনের শিকার হিসেবেই চিহ্নিত, সেই রকমই সীমান্তের ওপারে যে নারীরা অপার মমতায় অক্লান্ত খাটুনি দিয়ে শরণার্থীদের প্রাণে এবং মনে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন, তাদের অবদানের যথাযথ উল্লেখ খুঁজে পাওয়া যায় না ইতিহাসের পাতায়। অথচ এ ধরনের ঘটনা কোনাে দৃষ্টিভঙ্গিতেই গ্রহণযােগ্য নয়। অসম্পূর্ণ, অসত্য বা অর্ধসত্য বর্ণনা কখনােই ইতিহাসের মর্যাদা পেতে পারে না। সেদিকে লক্ষ রেখে আইন ও সালিশ কেন্দ্র হাতে নেয় মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকা সম্পর্কিত মৌখিক ইতিহাস প্রকল্প। মৌখিক ইতিহাস প্রকল্পের আওতাভুক্ত আছে, একাত্তরে ধর্ষণের শিকার। বাঙালি মেয়ের নির্যাতন কাহিনীর পাশাপাশি পাহাড়ি নারীর সংগ্রামের কথাও। তাছাড়া এ কাজ করতে গিয়ে দেশের গণ্ডির বাইরে আমরা দৃষ্টি ফেলতে চেষ্টা করেছি। সেই সূত্রেই উঠে এসেছেন এই গ্রন্থের লেখিকা অঞ্জলি লাহিড়ী। যিনি মুক্তিযুদ্ধের পুরাে সময়টাতে নিজের দৈনন্দিনতাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে সিলেট-মেঘালয় সীমান্তের শরণার্থী। ক্যাম্পে ক্যাম্পে কাটিয়েছিলেন। নয় মাস ব্যাপী তার বিচিত্র অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশিত হয় মৌখিক ইতিহাস প্রকল্পের আওতাভুক্ত প্রথম। প্রকাশনা স্মৃতি ও কথা-১৯৭১