এই নিবন্ধের মূল আলোচ্য বিষয় চট্টগ্রামের রিপাবলিকান আর্মির চট্টগ্রাম শাখার সর্বাধিনায়ক সূর্য সেন (মাস্টারদা)। এর পাশাপাশি নিশ্চিতভাবে রয়েছে সশস্ত্র আন্দোলনের বেশ কিছু চিরস্মরণীয় ঘটনা। পরাধীন ভারতবর্ষের বিপ্লবী ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে পরাধীন ভারতবর্ষে বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশক থেকে প্রকৃতপক্ষে শুরু হয়েছিল বিপ্লবী দল গড়ার কাজ। বিপ্লবী দলগুলির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে মাতৃভূমিকে স্বাধীন করা। মাতৃভূমির মুক্তি মন্ত্রে শপথ নিয়ে বিভিন্ন বিপ্লবী দলে যোগ দিয়েছিল বহু কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী। বিপ্লবী দলের একাধিক যুবক-যুবতী নিজেদের জীবন বিপন্ন করে দলের নির্দেশে সশস্ত্র আঘাত হেনেছিল বিদেশি সরকারের আমলাদের উপর। হত্যা করেছিলেন ভারতবর্ষে বসবাসকারী একাধিক ইউরোপিয়ান প্রশাসনিক আমলাকে। বিপ্লবী দলের বহু সদস্যকে এই জন্যে হত্যা বা যড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদন্ডে বা নানাবিধ অপরাধে দন্ডিত হয়ে কারোকে উঠতে হয়েছিল ফাঁসির মঞ্চে অথবা কারাগারের অন্ধকার জীবনে। বিপ্লবীরা হাসিমুখে মেনে নিয়েছিলেন ব্রিটিশরাজের তৈরি আদালতের বিধান। দন্ডিত অভিযুক্তদের মধ্যে বেছে বেছে কারো কারোকে পাঠানো হয়েছিল কালাপানির দেশে অর্থাৎ আন্দামান সেলুলার জেলে অথবা বার্মার কারাগারে। দেশের কাজে জীবন আত্মাহুতি দিতে বিপ্লবীরা কখনই কুণ্ঠাবোধ করেননি। বিপ্লবী দলের সক্রিয় সদস্যরা নিজেদের দলের আদর্শে ছিলেন অবিচল। তাঁদের কাছে দলের আদর্শই ছিল শেষ কথা। ব্যক্তিগত স্বার্থ তাঁদের কাছে ছিল অতি তুচ্ছ ব্যাপার। সদস্যদের আদর্শভ্রষ্টতা ও বিচ্যুতি দেখলে দলের কাছে তা ছিল নিতান্ত অপরাধ। দলের পক্ষে, দলের নেতৃত্বের পক্ষে, আদর্শচ্যুত সদস্যের অপরাধ ক্ষমা করা ছিল অসম্ভব। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে আদর্শ থেকে বিচ্যুতি ও দলের প্রতি বেইমানি করার অপরাধে দলের নেতৃত্বের নির্দেশে চরম দন্ড পেতে হয়েছিল একাধিক বিপ্লবী সদস্যকে। পথের কাঁটা সরিয়ে ফেলতে খুন পর্যন্ত করতে হয়েছে আদর্শ ও নীতিভ্রষ্ট বিপ্লবীকে।