ফ্ল্যাপে লিখা কথা পেশায় সাংবাদিক শাহীন চৌধুরী সাহিত্যচর্চায় নিবেদিত এক প্রাণ। ছাত্রজীবন থেকে লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। গদ্যেপদ্যে সমান পারদর্শী। তার কাব্য, উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনী, প্রবন্ধ সংকলন, ফোক সংগ্রহসহ বহু প্রকাশনা রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ভ্রমণকাহিনী ‘গ্রেটওয়াল থেকে নায়াগ্রা’ এবং ‘জাতিসংঘ ও লাইভ ওবামা’ পাঠকসমাজে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। আলোচ্য কাব্যগ্রন্থ ‘সুনন্দা’। কবি শাহীন চৌধুরী গভীরভাবে অনুভূতিপ্রবণ। প্রেমিকার সঙ্গে আত্মলীন কবি তার পঙক্তিতে তুলে এনেছেন এক ছায়া শরীর, যার নাম সুনন্দ। মানব-মানবীর শাশ্বত প্রেমে জড়িত একজন সুনন্দাকে ঘিরে আবর্তিত তাঁর কাব্যস্বর। চিরচেনা নারীর প্রতি আত্মনিবেদনের স্মৃতিমালা অদ্ভুত আকর্ষণ নিয়ে জড়িয়ে আছে কবিতাগুলোর শরীর। ব্যক্তি জীবনের প্রেম, সম্পর্কের উত্থান-পতন, প্রেয়সীর উদাসীনতা, ভেসে যাওয়া সম্পর্ক কবিতাগুরোর প্রাণশক্তির দ্যোতক। হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে প্রেয়সীর প্রতি যে-উচ্চারণ কবির, তার নিবিড় স্পর্শ পাঠককে ছুঁয়ে যায়। কবির, তার নিবিড় স্পর্শ পাঠককে ছুঁয়ে যায়। প্রত্যেকটি কবিতায় ঝরে পড়ে এক না-পাওয়ার বেদনা, হারানো প্রেমের দীর্ঘশ্বাস। সব ভঅলোবাসার গভীরেই তো বয়ে যায় এক দুঃখময় নদী। ‘প্রেম’ শব্দটির মধ্যেই যন্ত্রণাবোধের আভাস থেকে যায়। অথবা বলা যায়, যে প্রেমে যন্ত্রণাবোধ নেই সে প্রেম বিনোদন ছাড়া আর কী দিতে পারে! রোমান্টিক ভাবনার কবি শাহীন চৌধুরীর ‘সুনন্দা’ কাব্যগ্রন্থের ছত্রে-ছত্রে উড়ে বেড়ায় ঐশ্বর্যময় টানা এক বিষাদ। ‘সুনন্দাকে’ নিয়ে শেষপর্যন্ত কবি এগিয়ে যান জীবনের দিকে। হতাশার অন্ধকারেও আশাবাদের সুর বেজে ওঠে তার প্রাণ-মন-দেহে। অযথা জটিল নয় কবির কাব্যভাষা। নম্র তার উচ্চারণ, তবে তীক্ষ্নতায় উজ্জ্বল। - কে জি মোস্তফা।