মহাকালের তুলনায় মানুষের জীবন ক্ষুদ্রস্য ক্ষুদ্র। কিন্তু এই ক্ষুদ্র জীবন ধারণের জন্য মানুষ বৃহৎসব পরিকল্পনা করে । তবে সময় শেষ হয়ে এলে ওপরওয়ালা ঠিকই অসমাপ্ত পরিকল্পনার মাঝখানে তাকে টেনে নিয়ে যান অন্য কোথা অন্য কোনোখানে। মানুষ তখন বোঝে— এতদিন যাকে নিজের জীবন ভেবেছিল, এ তো আসলে স্রষ্টারই সাজানো একটি জীবননাট্য। ন' অবশ্য তার জীবন ঘিরে ঘটে যাওয়া বিচিত্র ঘটনাবলি যে স্রষ্টার প্ল্যান, তা কীভাবে যেন বুঝতে পারতো। কিন্তু তার জীবনের সব ঘটনা লিপিবদ্ধ করে, তার মুখ নিঃসৃত সব বাণী লিখে তার প্রেমিক রবি বিশ্বকবি অভিধায় সম্মানিত হবে আর সে নিমিত্তমাত্র তার ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকবে স্রষ্টার এমন একচক্ষু নাটক মেনে নিতে পারতো না সে কিছুতেই! তার সাথে রবির বাল্যপ্রেম, রবির মেজদাদার বালিকাবধূ হিসেবে তাদের ঘরে অনুপ্রবেশ, রবির অন্যত্র বিয়ে উপলক্ষ্যে তার আত্মহত্যার নাটক সাজানো—জীবনের এই তুমুল উত্থানপতনের মাঝে এগিয়ে চলা সাহিত্যসাধনা—সাহিত্যে রবির বিশ্বস্বীকৃতি—এই সবই রবি, রবির পরিবার ভাবত, উপভোগ করত এক সফল জীবনের গল্প হিসেবে। কিন্তু ন'ই শুধু জানতো, এ জীবন দেবীর রচিত জীবননাট্যে তাদের অভিনয় মাত্র। অবশেষে, একদিন ঈশ্বর তাদের জীবনের নাটকের সমাপ্তি ঘোষণা করেন, কিন্তু পৃথিবীর দশজন যথারীতি ভাবে, তারা মারা যাচ্ছে।