প্রতিবার চট্টগ্রাম থেকে যাবার সময় ট্রেনে যেতাম। নতুন রেলওয়ে স্টেশন থেকে ‘সুবর্ণা এক্সপ্রেস’-এ ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবার সময় প্রতিবার টগরই আমাকে ট্রেনে তুলে দিতে আসত। ট্রেন ছাড়ার পূর্ব মুহ‚র্ত পর্যন্ত জানালার সামনে দাঁড়িয়ে থাকত আর টুক টুক করে কত কথা যে বলত! দৌড়ে গিয়ে মিনারেল ওয়াটারের বোতল কিনে আনত, বিস্কুটের প্যাকেট নিয়ে আসত টাকা নিত না। বলত, ‘রাস্তায় খিদা লাগতে পারে, পানির পিপাসা পাইতে পারে, এইগুলো রাখেন।’ আন্তরিকতার এই দারুণ খরায় কেউ এত মমতা দেখালে মন তো উদাস হবেই! আজ টগর নেই, সেই মমতাও আর নেই! তাই স্টেশনের দিকে যেতে মন সায় দিল না। তাছাড়া যত তাড়াতাড়ি ফিরে যেতে পারি ততই ভালো... চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যাওয়া হলো না আমার। আর কোনোদিন যাওয়াও হবে না। আমি মনে মনে ঠিক করে নিয়েছি আর কখনো চট্টগ্রামে আসব না। এ শহর টগরের শহর, তাকে ছাড়া সমস্ত শহর আমার কাছে শ্রীহীন। ওকে ছাড়া বড্ড বেমানান সবকিছু। কোনোদিনও আসব না আর! টগরের নগরে এটাই আমার শেষবার।