বিরামপুরের মহারাজা তার কথা রেখেছিলেন। ‘কুমার’ নামে যে ছেলেটিকে পরম যত্নে ২০টি বছর বুকের মধ্যে আগলে রেখে লালন পালন করে বড় করে তুলেছিলেন, যে কুমারকে তার শেকড়ের অস্তিত্ব খুঁজে বের করতে এক দুর্গম অভিযাত্রায় পাঠিয়েছিলেন সেই মানবহিতৈষী মহারাজ নৃপেন্দ্র কিশোর রায় রায় চৌধুরী ষোড়শ শতাব্দীতে মোগল সম্রাট আকবর আর রাজপুতানি ষোধা বাঈ-এর যে রীতি-নীতিতে বিয়ে হয়েছিল, তিনি কিন্তু সে পথে যাননি। এই মহারাজা তার প্রতিজ্ঞায় অটল থেকে বেশ জাঁকজমকের মধ্য দিয়ে মুসলিম রীতি নীতিতে বিরামপুর প্রাসাদে কুমার আর ইন্দ্রানীর বিয়ে দিয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। বিয়ের পর কুমার হন নবাব জুনায়েদ আলী খাঁন, ইন্দ্রানী নাম ধারণ করেন জান্নাতুল ফেরদৌস ইন্দ্রানী খাঁন। পরবর্তীতে তাদের সংসারে দুই পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। এরপর বংশ পরম্পরায় মুসলিম রীতি নীতিতে এদের সন্তানেরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। পাঠক, উপন্যাসটির কাহিনির পটভূমিকায় উপরিউল্লিখিত চালচিত্রটুকু লেখকের সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত। বাস্তবে এর কোন ঐতিহাসিক সত্যাসত্য নেই। শুধুমাত্র কাহিনিটির প্রয়োজনে একটা ‘উপমা’ বা সাদৃশ্য (ANALOGY) লেখক নিজ থেকে এখানে টেনে এনেছেন। যা, লেখকের ঐচ্ছিক কল্পনার একটি রূপান্তর মাত্র।