"১৯৭৩ সালের আগস্টে আমি যেদিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপসচিব নাথ-২ হিসেবে কাজে যোগ দিলাম, সেদিন বিকেল ৩টায় পুরাতন গণভবনের দোতালায় দুরু দুরু বক্ষে কদমবুচি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের সামনে হাজির হই। অনেক হাল্কা ও ভারী কথার পর শেষে তিনি বললেন, 'দেখবে ফরাস আমি কিন্তু গরিব দেশে দরিদ্র মানুষ চাষাভূষা শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষের প্রধানমন্ত্রী। তোর মাধ্যমে আমার কাছে ঘামের গন্ধওয়ালা, ময়লা কাপড়ে, ঘাবড়ে যাওয়া যারা গণভবনে আসবে তারাই আমার প্রকৃত বন্ধু। তাদের কাজ করে দিস বাবা।” “১৯৬৭ সালে আমি জেলে যাই। তখন বঙ্গবন্ধু যে সেলে ছিলেন পুরানা ২০নং সেল, তার সামনের সেলে আমাকে রাখা হয়। প্রায়ই তার সাথে আমার কথা হতো। একদিন আমাকে তিনি বললেন, 'জেল থেকে বের হয়ে আমি প্রতি জেলায় জেলায় মিটিং করবো।” “বঙ্গবন্ধু দোতালা থেকে নেমে জানতে চাইলেন 'শামসুল হক এসেছে কি না?' তারপর আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন 'আমার জনাব শামসুল হকের নাড়িভুড়ি বের করে ফেলেছে'। সেদিন যে বঙ্গবন্ধু আমাকে 'জনাব শামসুল হক' বলেছিলেন, তারপর থেকে সবাই আমাকে ‘জনাব শামসুল হক' বলেই ডাকে।"