বই এর প্রথম ফ্লাপ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাঁরা বাংলা পড়েন বা পড়ান তাঁদের অনেকের চোখে সাবেক কালের ব্যাকরণ আর হাল আমলের ভাষাতত্ত্ব একই রকম দেখায় ৷ অথচ ব্যাকরণ তো ভয় দেখাতেই ব্যস্ত; আর জট ছাড়িয়ে দেওয়ার কাজে চমকপ্রদ কেরামতি দেখিয়েই ভাষাতত্ত্ব চিন্তাশীলদের আসর জমিয়েছে অনেক দিন হল। ধ্রুপদী ব্যাকরণ ছিল উচ্চবর্গের দাপটের অন্যতম প্রকাশ; গণতন্ত্রের মিত্র ভাষাতত্ত্ব। বৈয়াকরণ যেখানে চোখ রাঙিয়ে গুরুমশাইগিরি করতেন— “কদাচ ইতিপূর্বে বলিবে না, সর্বদা ইতঃপূর্বে বলিতেই হইবে”— সেখানে ভাষাতাত্ত্বিক আপনার কথায় কান দেয়। জানতে চায় যে-রীতিতে আপনি কথা বলেন সেই রীতিবিশেষের কায়দাকানুন ঠিক কী রকম। আপনাকে ধৈর্য ধরে দেখিয়ে দেয়, আপাতজটিল বেনিয়মের আড়ালে যে সব সূত্র সকলের অগোচরে কাজ করছে সেগুলোর অন্তর্নিহিত সরল চেহারা ফুটিয়ে তুলতে চাইলে কী রকম সযত্ন, সূক্ষ্ম গোয়েন্দাগিরি করতে হয়। সাহিত্যচর্চাও ভাষাতত্ত্বের পরিবেশে অন্য রকম লাগে; সে-রসেও বঞ্চিত হবেন না ভাষার বিন্দুবিসর্গ-এর পাঠক।