সুমনের একজোড়া চোখ পলকহীন তাকিয়ে আছে জেরিন ম্যাডামের দিকে। জেরিন ম্যাডাম যা যা করছেন, সবগুলো কর্মকান্ড ফলো করছে— একদম ছায়ার মতো। বিলের ধারে অনেকগুলো রকমারি পাখি, তারা মনের আনন্দে কিচিরমিচির করছে আর যে যার খাবার খাচ্ছে। কোনোটা খাচ্ছে মাছ, কোনোটা কীটপতঙ্গ আর কোনো কোনোটা সম্পূরক খাদ্য হিসেবে ধান বা শামুক। কয়েক রকম শালিক, বক, পানকৌড়ি, বেলেহাঁস, শরাইল আরো নাম না জানা অনেক পাখি। জেরিন ম্যাডাম একজন শৌখিন ফটোগ্রাফার। মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে ছবি তোলেন। বড়লোকের মেয়ে বলে কথা। যখন যা ইচ্ছে , তাই করতে পারেন। বড়লোকের আর যাইহোক, টাকার অভাব থাকে না। যে গ্রামে বেড়াতে এসেছে, সেই গ্রামেই তার বাপদাদার জন্মস্থান। তাদের মূল পেশা ছিলো কৃষিকাজ। জেরিনের বাবা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সেই যে ঢাকায় চলে যান, আর কোনোদিন মূল পেশায় ফিরে আসেননি। ওখানেই লেখাপড়া ও চাকুরীর শুরু। তারপর বৃত্তি নিয়ে আমেরিকায় গিয়ে সেখানেই সেটেল হন।