"ল্যাংড়া পাহান" বইয়ের প্রারম্ভিক কিছু অংশ গরমের ছুটিতে বহু বছর পরে একসঙ্গে কোথাও এলাম আমরা। তাই না? -তিতির বলল। যা বলেছ -আমি বললাম। পাশের কটেজ থেকে ঋজুদাও এসে যে কটেজে আমি আর ভটকাই রাতে ছিলাম তার বারান্দাতে উঠল, পাজামা-পাঞ্জাবি পরে। লংক্লথের পাজামা আর আদ্দির পাঞ্জাবি। ঋজুদা কখনও স্লিপিং-স্যুট পরে না। পুরােপুরি বাঙালিয়ানাতে বিশ্বাসী সে, শুধুমাত্র পাজামা পাঞ্জাবিটা ছাড়া। আজকাল অবশ্য খুব কম বাঙালিই ধুতি পরেন। কিন্তু ঋজুদা বলে, প্রত্যেক বাঙালির ধুতিই পরা উচিত। তামিলনাড়ু, কর্ণাটক এবং কেরালার মানুষেরা তাে ধুতিই পরেন, পাঞ্জাবী, কাশ্মীরি সকলেই নিজেদের পােশাক। তখন আমাদের এই সাহেবি অথবা জগাখিচুড়ি পােশাক পরার কোনও মানে হয় না। তিতির, তার কটেজ থেকে আগেই এসে হাজির হয়েছিল। ঋজুদা এসে আমাকে বলল, কী রে রুদ্র? চা আনতে বলেছিস? তিতির বলল, কাল রাতেই তাে বলে দিয়েছি সব কটেজেই ভাের ছটাতে বেড-টি দিতে। কিন্তু এখনও তাে ছ'টা বাজেনি। বাবাঃ হলাে কি রে তাের রুদ্র ? আজ কি সে সানরাইজ দেখবি নাকি? নাও। বাঙালি এবারে সত্যি সত্যিই জাগবে বলে মনে হচ্ছে। কলকাতার সব পাড়ার চারদিকের দেওয়ালে কারা যেন লিখত না