প্রাইমারি স্কুলের একদম মাথায় রহমান স্টোর নামের যে দোকানটা,সেখানে চা-পানসিগারেট খাওয়া নিয়মিতই চলে। ক্ষেতে কাজ করে এসে দুপুরের অবসরটা আমগাছের ছায়ায় ঢাকা রহমান স্টোরে কাটাতেই পছন্দ সবার। প্রচণ্ড রােদে এখানে শীতল বাতাস,বড় আমগাছটা বরফশীতল বাহুতে ঢেকে রেখেছে সকলকে। ঢেকে রেখেছে সমস্ত উত্তাপ, ক্লান্তি, তবে কৃতজ্ঞতা শিকার না করা মানুষের বরাবরের মতােই স্বভাব। সেই আমগাছের বাহুতেই আবার একটা দোলনা ঝুলিয়ে রেখেছে কেউ। ভারী বড় দোলনা, সবাই দুলতে পারে এমন, আমগাছের ডালে গেঁথে গেছে রশি। আঠা চুইয়ে পড়ছে, যেন গাছটা কাদছে, কাঁদলেও কোনাে ভ্রুক্ষেপ নেই কারাে। গ্রামের বয়স্ক বৃদ্ধ হেলাল দিব্যি বিড়ি টানতে টানতে দোল খায় তাতে। মধ্যদুপুরে এসে ভীষণ চটে থাকা মেজাজে ফলনের বিরূপ অবস্থার কথা সবাইকে বলতে থাকে। তার কালাে শরীরে মাথা বেয়ে ঘাম ঝরতে থাকে। সেই ঘামের গন্ধ ধানের মতাে লাগে। শরীরে লেপ্টে থাকতে দেখা যায় খড়।হেলাল রহমানের কাছ থেকে লাল চায়ের দাবি করে বিড়ি ফকতে থাকে। চা মুখে নিয়ে আবার থু করে ফেলে দিয়ে বলে, শালার চা ডাও নি ভালাে করে বানাবার পারিস না। তাের তাে দোকান করাই ঠিক না।