জিললুর রহমান চেতনায় নিত্য সঞ্চরমাণ, যুক্তিসিদ্ধ গদ্যের ঝরনাস্বচ্ছ এক প্রবাহ রচনা করেছেন এই বইটিতে। দীর্ঘ-নাতিদীর্ঘ চারটি চিন্তাসূত্র তাঁর মননের ঝোঁক ও কৌতূহলকে যথোচিত মাত্রাদানে ভ্রমণ করেছে মানুষের এ তাবৎকালের বহু কীর্তি ও বিশ্রুত আখ্যানের গহনদেশে। সেখানে মাতৃভূমি-বন্দনার সমতালে উদ্ভাসিত হয়েছে রাষ্ট্র, ধর্ম, ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা ও মৃত্যুচেতনার অভিসারও। বস্তুত জাগতিক ও পারত্রিক যে প্রশ্নগুলোর অকূল সাগরে পতিত হয়েও তা থেকে দ্রুত নিষ্ক্রান্ত হতে জনমানুষের মরিয়া প্রচেষ্টা হাজার হাজার বছর ধরে, তার উৎখননে জিললুর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন নব্য মুদ্রায়। এবং তাতে সাবলীল ভঙ্গিতে ডুবসাঁতার-চিৎসাঁতারে লীলায়িত থেকেছেন। আর বানিয়ে নিয়েছেন নিজস্ব লব্ধি ও অনুভূত সত্যের বুদ্ধিঋদ্ধ মিনার। তাঁর গদ্য অদম্য, বেগবান আর জিজ্ঞাসা চরিতার্থে অক্লান্ত। মিলেমিশে থাকার দক্ষিণ এশীয় ধ্রুপদি সভ্যতার প্রাণদায়ী বাতাসে গ্লানিময় সাম্প্রদায়িকতার যে গরল ভেসে বেড়াচ্ছে বিশেষত ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার তলদেশে তাঁর সপ্রশ্ন অভিগমন আগেকার বহু বোবা প্রসঙ্গকে স্থানচ্যুত করেছে অর্থাৎ নতুন বাক্সময়তা দান করেছে।