মানুষের প্রবল জীবনস্পৃহা কোনো দুর্যোগেই স্তব্ধ হওয়ার নয়। দুর্যোগের মোকাবেলা করাই জীবনের ধর্ম। তাই জীবন থেমে নেই। সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেই আমাদের বেঁচে থাকতে হয়। প্রেমই জীবনের গোপন চালিকাশক্তি। ভালোবাসার শক্তি দিয়েই আমরা দুর্যোগের হাত থেকে জীবনকে ছিনিয়ে নিতে চাই। এক অর্থে প্রেমই জীবন সংগ্রামের নিবিড় উৎসারক। তরুণ কথাশিল্পী আশীষ কুমার সাহা'র তুমিই সুখ একটি ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাস। এর মূল বিষয় নারী-প্রেম। নারী-প্রেম যে বস্তুত কি জিনিস তা বলা সত্যিই কঠিন। এ হচ্ছে এমনই এক রহস্যময় ধাঁধা যা মানুষ দিনের পর দিন ভেবেও বুঝতে পারে না বা সমাধান করতে পারে না। সহজ-সরল আর মেধাবী অথচ অতিরিক্ত স্বাধীনচেতা যুবক পিয়াসের কঠিন প্রতিশ্রুতি যখন চন্দা নামের এক মেয়ের কামনার আগুনে ভষ্ম হয়ে গিয়েছিল তখন নারীকে মনে হয়েছিল ছলনাময়ী আর লীলাকপটিনী রূপে। কিন্তু অনামিকা যে কিনা কৈশোর থেকেই পিয়াসকে ভালোবেসে আসছে, ভালোবাসা দিয়ে পিয়াসের আহত হৃদয়কে সুস্থ করে তুলল। সব ব্যথা ভুলে গিয়ে পিয়াসের হৃদয়ের ধ্বনি হলো রমণী ক্ষমাময়ী, দয়াময়ী, স্নেহময়ী- রমণী ঈশ্বরের কীর্তির চরমোৎকর্ষ, দেবতার ছায়া, পুরুষ দেবতার সৃষ্টি মাত্র। স্ত্রী আলোক আর পুরুষ ছায়া। আলো কি ছায়া ত্যাগ করতে পারে?