সকালে ঘুম থেকে উঠে অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম জানালা দিয়ে কে যেন আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তার দিকে চোখে পড়তেই আমি চমকে উঠলাম। আমাকে চমকে উঠতে দেখে সে দাঁত বের করে নিঃশব্দে হাসলো। আমি তাড়াতাড়ি বিছানায় উঠে বসলাম। নিজেকে সামলে নিয়ে তীক্ষ্ণগলায় জিজ্ঞেস করলাম, কে আপনি? জানালার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটা আমার কথার কোনো উত্তর দিলো না। আবার দাঁত বের করে হাসলো। হাসার সময় লক্ষ্য করলাম পান খেতে খেতে লোকটার দাঁত তরমুজের বিচির মতো কালো হয়ে গেছে। জানালার পাল্লা সামান্য ফাঁক করে সে দাঁড়িয়ে ছিলো। বিছানায় বসে থেকেই আমি জানালার পাল্লাগুলো মেলে দিলাম। মুহূর্তেই অন্ধকার ঘর আলোকিত হয়ে উঠলো। আমাকে জানালার পাল্লা খুলতে দেখে সে জানালার সামনে থেকে সরে কিছুটা দূরে গিয়ে দাঁড়ালো। লোকটার গালে খোঁচাখোঁচা দাড়ি। পরনে একটা লুঙ্গি আর কোমরে একটা হলুদ রঙের গামছা বাঁধা। তার গায়ে কিছু নেই। সূর্যের আলো পড়ে সারা গা চিকচিক করছে। চঞ্চল চোখে সে একবার আমার দিকে তাকাচ্ছে আরেকবার উঠানের পাশের নিরীহ পথের দিকে তাকাচ্ছে। তার তাকানোর ভঙ্গি দেখে আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম সে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। সে কি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবে নাকি চলে যাবে তা ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না।